কিভাবে বাংলা কন্টেন্ট তৈরি করতে হয় ২০২৪

কিভাবে কন্টেন্ট তৈরি করতে হয়

অনেক দিন ধরে আপনি নিজের প্রশ্নবানে বিধ্বস্ত, যে কিভাবে কন্টেন্ট তৈরি করতে হয় এবং অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় । ইংরেজিতে আপনি পারদর্শী নই। তাই আপনি বাংলা ভাষায় কন্টেন্ট লিখার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

কিন্তু কন্টেন্ট লিখার আগে কি কি করতে হয় জানেন না। কারণ নিজের মাতৃ ভাষা সবার কাছে খুব পরিচিত একটি ভাষা। এবং এতে নিজের মনের মতো করে লিখা যায়। আজকে আমরা সেই সম্পর্কে কিছু বলার চেষ্টা করবো। কন্টেন্ট কি ? ডিজিটাল কন্টেন্ট কি ? কিভাবে কন্টেন্ট এর ভাল আইডিয়া পাবেন? 

এই সব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করবো । যাতে আপনি একটি সুন্দর গাইড পান। অনলাইন জগতে ভাল মানের একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে পারেন । এবং অবশ্যই কন্টেন্ট ক্রিয়েটররের মাধ্যমে একটি ক্যারিয়ার গঠন করতে পারেন। 

কন্টেন্ট কি ? 

কন্টেন্ট হলো কারো নিজস্ব অভিজ্ঞতা লিখিত আকারে কিংবা চিত্র আকারে অথবা ভিডিও আকারে মানুষের মাজে মেসেজ দেওয়া। অর্থাৎ কন্টেন্ট তৈরি করা মানে নিজের ব্যক্তিগত জ্ঞান অন্যের মাজে বিলিয়ে দেওয়া । 

এই কন্টেন্ট মানুষ অনেক ভাবে করে থাকে ।

যেমন কোনো অডিও,ভিডিও,লিখা বা চিত্র রূপে মানুষ নিজের জ্ঞান কে বিতরণ করে থাকে ।

আরো সহজ ভাষায় বললে আমরা যা কিছু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া তে দেখতে পাই যেমন ফেইসবুক,টুইটার,লিঙ্কডিন এবং ইউটিউবে। তাই হলো কন্টেন্ট। 

ডিজিটাল কন্টেন্ট কি?

আধুনিক কন্টেন্ট কে ডিজিটাল কন্টেন্ট বলা হয় ।  যা আমরা অনলাইনে দেখতে পাই । এখন যুগের আশীর্বাদে মানুষ যা কিছু অনলাইনে প্রকাশ করে থেকেই ডিজিটাল কন্টেন্ট বলে। এইগুলি মানুষ ইউনিক ভাবে প্রকাশ করছে ভিবিন্ন রকম মিডিয়ার মাধ্যমে। খুব হাতের কাছে খুব সহজে পাই বলে তাকে ডিজিটাল কন্টেন্ট বলে। 

ডিজিটাল বাংলা কন্টেন্ট তৈরির ধাপ সমুহ

কন্টেন্ট সম্পর্কে আমরা যা কিছু বলেছি সব কন্টেন্ট এর মধ্যে আমরা বাংলা কন্টেন্ট সম্পর্কে আলোচনা করবো।আসলে এই ধাপ গুলি ইংরেজিতে ও একই । তবে আজকে বাংলা কন্টেন্ট ই হলো আমাদের আলোচ্য বিষয় । কন্টেন্ট তৈরী করার আগে কিছু ধাপ রয়েছে। সেইগুলি সম্পর্কে আমরা একটু দৃষ্টিপাত করবো । কারণ এইগুলি অবশ্যই প্রয়োজন।

 যেমন ঃ

১. নিশ নিৰ্বাচন । নিশ মানে হলো একটি বিষয় বা কুলঙ্গি। 
২. কিওয়ার্ড নির্বাচন 
৩. লো ভেলু কিওয়ার্ড 
৪.  কম্পিটিটর এনালিসিস 

কন্টেন্ট তৈরির জন্যে নিশ নিৰ্বাচন

বাংলা কন্টেন্ট লিখার জন্যে সর্বপ্রথম আপনাকে একটি বিষয় বা নিশ নির্বাচন করতে হবে। যেমন আপনি কি নিয়ে লিখবেন। সেই বিষয়টা আগে ঠিক করতে হবে। সেটা হতে পারে। স্বাস্থ্য বিষয়ক,অনলাইন ইনকাম নিয়ে বা মোবাইল সম্পর্কে অথবা কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে। যা কিছু আপনার ভালো লাগে বা আপনি যে বিষয় নিয়ে লিখতে ভালবাসেন।  

কিওয়ার্ড নির্বাচন

এবার আপনার কাজ হচ্ছে কিওয়ার্ড নির্বাচন করা। কি(key) মানে হচ্ছে চাবি।ওয়ার্ড (word)হচ্ছে হচ্ছে শব্দ। তার মানে হলো শব্দ বা ওয়ার্ড হচ্ছে কন্টেন্ট এর চাবি । তাই আপনাকে ভালো করে বিষয় অনুযায়ী কিওয়ার্ড নির্বাচন করে নিতে হবে অবশ্যম্ভাবী। না হলে আপনি ভিজিটর হারাবেন । 

এই কি ওয়ার্ড হলো আপনার কন্টেন্ট এর মূল প্রাণ। এই কিওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে আপনার কন্টেন্ট ভিজিটর রা সার্চ করে থাকবেন।  তাই এই কিওয়ার্ড হলো কন্টেন্ট এর জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

লো ভেলু কিওয়ার্ড 

লো ভেলু কিয়ার্ড বলতে। যে কি ওয়ার্ড গুলি নির্বাচন করেছেন সেইগুলি যেন কম সার্চ এর হয়।

মানে ভেলু যেন কম হয়। মানুষ সার্চ করলে যেন মাসে খুব কম সার্চের কিওয়ার্ড গুলি নির্বাচন করুন ।

তাহলে আপনার কন্টেন্ট সার্চ রেজাল্টে খুব তাড়াতাড়ি মানুষ খুঁজে পাবে।

নতুন অবস্থায় বেশি সার্চ ভলিয়ম কিওয়ার্ড নির্বাচন করলে আপনার কন্টেন্ট খুঁজে পেতে একটু কষ্ট হবে ।

তাই কম সার্চ ভলিয়ম কিওয়ার্ড গুলি নির্বাচন করা আপনার জন্যে খুব উপযুক্ত। 

কম্পিটিটর এনালাইসিস

কম্পিটিটর মানে হলো প্রতিদ্বন্ধী। আপনার যে কিওয়ার্ড গুলি নির্বাচন করেছেন সেই কিওয়ার্ড গুলি সার্চ করার সময় দেখবেন কোন কোন কন্টেন্ট গুলি সার্চ রেজাল্টে দেখাচ্ছে ।

এবং এদের থেকে কিছু কিছু কন্টেন্ট আপনি পড়ে দেখবেন। তারা কিভাবে লিখছে। বা কিভাবে হেডিং সাজিয়েছেন। 

এদের কন্টেন্ট এর মান কেমন । লিখাগুলি কিভাবে সাজিয়েছেন এইভাবে ঐখান থেকে আপনি একটি ধারণ পাবেন।

এবার এদের কে ফলো করে নিজের মনের মত করে আপনি ও কন্টেন্ট লিখা শুরু করতে পারেন। 

কন্টেন্ট তৈরি করার আইডিয়া কিভাবে পাবেন ?

কিভাবে কন্টেন্ট তৈরি করতে হয়

কন্টেন্ট লিখার আইডিয়া কিভাবে পাবেন? এটি একটি প্রশ্ন। অনেক্ষন ধরে আমরা কন্টেন্ট এর পূর্বে যা কিছু প্রয়োজন তা নিয়ে কথা বললাম। এখন কিভাবে কন্টেন্ট লিখবেন তা নিয়ে একটু এগিয়ে যায়। 

আসলে কন্টেন্ট লিখার জন্যে অনেক রিসার্চ করতে হয়। অনেক ওয়েবসাইটে ঘুরে কিভাবে লিখে বা কি লিখে মানুষ সার্চ রেজাল্টে টপে এসেছেন। তা নিয়ে আপনাকে ভাল করে জানতে হবে। জানতে হলে রিসার্চ করতে হবে।

বিভিন্ন রকম কন্টেন্ট কিভাবে লিখেছেন তাদের হেডিং কিভাবে লিখেছেন। বা সাব হেডিং কিভাবে লিখে এবং কিভাবে কিওয়ার্ড গুলি প্লেস করেছেন সেইগুলি নিয়ে একটু জানতে হবে। জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে। এইভাবে ধীরে ধীরে আপনি কন্টেন্ট লিখার আইডিয়া পাবেন। 

কিভাবে কন্টেন্ট লিখবেন ?

আপনাকে এতক্ষন ধরে যে ধারণা গুলি দিয়ে আসা হলো সেইগুলি ভাল করে ফলো করলে আপনি নিজে নিজেই শিখে যাবেন কিভাবে কন্টেন্ট লিখে ।

তবুও আরও কিছু বিষয় বলার চেষ্টা করি। 

যেমন ধরুন আপনি কোনো বিষয় নিয়ে যখন অনলাইনে লিখবেন তখন কয়েকটা বিষয় মাথায় রেখে কন্টেন্ট লিখবেন। যেমন কি, কেন, কিভাবে, কি জন্যে বা কোথায় হতে এই সব বিষয় নিয়ে ।

অর্থাৎ মানুষ যেন একটা মেসেজ পাই। 

কন্টেন্ট এর মধ্যে প্রশ্ন রাখবেন যাতে করে মানুষের মধ্যে আগ্রহ থাকে আপনার কথাটি বা আপনার কন্টেন্ট পড়ার জন্যে আগ্রহ আরো বেড়ে যায় ।

এই ফরমেট ফলো করলে আশা করি আপনার কন্টেন্ট মানুষ অবশ্যই পড়বেন।

তাছাড়া কন্টেন্ট লিখতে অনেক জ্ঞানের প্রয়োজন। যার যত বেশি জ্ঞান রয়েছে। তিনি ততবেশি সুন্দর করে কন্টেন্ট লিখতে পারে।

সেই জন্যে আপনাকে ভাল অভিজ্ঞতার জন্যে পড়তে হবে এবং ভাল কন্টেন্ট লিখার জন্যে প্রচুর রিসার্চ করতে হবে। 

আর ও পড়ুন ঃ

ওয়েব ডিজাইন শিখতে কতদিন লাগে এবং কোথায় কাজ পাওয়া যায় । [Web Design]

ফ্রিল্যান্সিং কি ধরনের কাজ করে এবং ফ্রিল্যান্সাররা মাসে কত টাকা আয় করে।

দুরন্ত সাইকেল মূল্য ২০২৩ ।Duranta Bicyle Price 2023

১০০০০ টাকার মধ্যে সেরা মোবাইল বাংলাদেশ Best Mobile Bangladesh under 10000 Tk

কত শব্দের মধ্যে ব্লগ পোস্ট লিখে কন্টেন্ট তৈরি করতে হয়

একটি পোষ্টে কত শব্দ লিখবেন এইটা নির্ভর করে আপনি যে টপিক নিয়েছেন সেই অনুযায়ী। লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার পাঠকরা আপনার নির্বাচিত টপিকের মধ্যে সব কিছু পাচ্ছে কিনা ।

পাঠকদের চাওয়া পাওয়া মিটছে কিনা। 

একটি টপিক নিয়ে লেখার সময় মনে রাখতে হবে।

টপিকের উপর যত ইনফরমেশন প্রয়োজন সব কটি ইনফরমেশন যেন দেওয়া যায়। সেই ক্ষেত্রে যদিও ব্লগ পোস্ট একটু বড় হয় তাতে আরো ভালো হয়। 

স্বাভাবিক ভাবে একটি পোস্ট যদি ৩০০ ওয়ার্ডের হয় তাও কিন্তু পোস্ট ইনডেক্স হয়।

তাতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু সমস্যা হলো রেঙ্কিং এর ক্ষেত্রে ।

গুগল আপনার কন্টেন্ট কে বেশি গুরুত্ব দেবে যদি আপনার কন্টেন্ট ১০০০ ওয়ার্ডের বেশি হয় তাহলে গুগল তাড়াতাড়ি রেঙ্কিং দেয় বা রেঙ্কিং পেতে সুবিধা হয়।

 আপনি যতবেশিওয়ার্ডের কন্টেন্ট লিখতে পারবেন সেক্ষেত্রে আপনার জন্যে খুব বেশি ভালো হয় রেঙ্কিং পেতে।

মানে সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাবে তাড়াতাড়ি। তাই কোনটি ওয়ার্ডের না থাকিয়ে কত ভাল এবং বেশি কন্টেন্ট লিখা যায় সেই দিকে বিষয় লক্ষ্য দেওয়া বেশি প্রয়োজন।   

কন্টেন্ট রাইটিং এর ভবিষ্যত কেমন 

দেখুন কন্টেন্ট রাইটিং এর ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল কেন সেইটা আমি আপনাকে বুজিয়ে বলার চেষ্টা করেছি।

সারা বিশ্বে যতবেশি ব্যবসা বৃদ্বি পাচ্ছে সব ব্যবসায়ীদের এই কন্টেন্ট রাইটিং দের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। 

কারণ প্রত্যেক ব্যবসা যখন অনলাইনে। সেই অনলাইনে কন্টেন্ট গুলি মেনেজমেন্ট হয় চারটি ধাপে।

যথা ভিডিও,অডিও,লিখিত এবং ইমেজ দ্বারা এই কন্টেন্ট গুলি পাবলিশ করতে হয়। 

তাহলে আপনি সে ক্ষেত্রে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।

এবার ব্যক্তিগত বিষয়ে আপনি ব্যবসা বাদ দিয়ে নিজের কন্টেন্ট রাইটিং করে ও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

সেটি বর্তমানে নই । ভবিষ্যতে এই কন্টেন্ট রাইটারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। 

দিন দিন মানুষ অনলাইন নির্ভর হচ্ছে। প্রতিটা কিছু জানার আগ্রহ নিয়ে অনলাইনে সার্চ করে এবং সেখান থেকে জ্ঞান অর্জন করে।

সেই সুবাদে আপনার নিজের জ্ঞান বিতরণ করেও আপনি ভবিষ্যতের জন্যে নিজের স্থান করে নিতে পারেন। 

ভবিষ্যতে এই কন্টেন্ট রাইটিং এর চাহিদা আরো বাড়বে  বই কি কমবে না ।

তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করে কাজ টিকে আপনি ভালো করে আয়ত্ব করে নিন।

কন্টেন্ট তৈরি সম্পর্কে শেষ কথা 

কন্টেন্ট তৈরী করা, কন্টেন্ট লিখা এই গুলি সব হচ্ছে প্রগতিশীল কাজ ।

আর প্রগতিশীল কাজ কখনো পিছিয়ে পড়ে না । সব সময়,সর্বযুগে মানুষের মন জয় করে এসেছেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রা।

তাই বেশি কিছু অপচিন্তার উপর ভর না করে এগিয়ে যান ।

অবশ্যই একদিন এই কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে আপনার জীবন সুগঠিত হবে আশা করি। 

কন্টেন্ট তৈরি করা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা (fAQ)

কিভাবে কন্টেন্ট তৈরি করব?

অনলাইন থেকে বা অন্যান্য জায়গা থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে কন্টেন্ট তৈরী করতে পারেন।
তবে সে ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা কে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

কনটেন্ট বলতে কি বুঝায়?

কন্টেন্ট বলতে যা থেকে মানুষ কোনো জ্ঞান অর্জন করে থাকে কন্টেন্ট বলে। সেটি হতে পারে কোন ভিডিও,অডিও,ছবি কিংবা লিখা। 

একজন কনটেন্ট রাইটার এর কাজ কি?

একজন কন্টেন্ট রাইটারের কাজ হলো নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণ করা। এবং কন্টেন্ট তৈরি করা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *