কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো ? এ টু জেট গাইড

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো

ব্লগিং কিভাবে শুরু করবো এই বিষয় জানার আগ্রহ এখন মানুষের মধ্যে দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই ক্ষেত্রে আপনার ও নিশ্চয় জানার আগ্রহ রয়েছে এই ব্লগিং সম্পর্কে। আপনি যদি ব্লগিং শুরু করতে চান বা শুরু করার জন্যে মন স্থির করেছেন। কিন্তু আপনি কিছুই জানেননা। তাহলে আপনি উত্তম জায়গায় এসেছেন। এই টপিকটা আপনার জন্যে। 

আমরা আজকে এই নিবন্ধে ব্লগিং কি ,কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো, কিভাবে ব্লগিং করে আয় করা যায়। এবং কিভাবে ব্লগিং করে অনলাইন ক্যারিয়ার গঠন করা যায় এই সব বিষয় নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো। আশা করি পাশে থাকবেন। আমি মনে করি ব্লগিং সম্পর্কে আপনার সমস্ত জানার আগ্রহ আমরা পূরণ করতে পারব। আপনার আর এই ব্লগিং নিয়ে কোনো সমস্যা থাকবেনা। 

ব্লগিং কি 

ব্লগিং কিভাবে শুরু করবো এই বিষয় সম্পর্কে জানার আগে আপনার জানতে হবে ব্লগিং কি? খুব সহজভাবে বলতে হলে বলা যায়, আমরা আগে যেমন মনের কথা বা কোনো জীবনের ঘটনা কিংবা কোনো গল্প ডায়রিতে লিখে রাখতাম। 

টিক তেমন করে ওই একই ব্যাপারটা আপনি অনলাইন এ ব্লগ আকারে লিখে মানুষের কাছে শেয়ার করবেন। অথবা কোনো বিষয়কে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। কোনো টপিক নিয়ে লেখা লেখি করে মানুষের কাছে পৌছিয়ে দেওয়া। 

প্রযুক্তির উন্নতির আশীর্বাদে আমাদের এখন আর ডায়রিতে লিখে রাখতে হয় না। এখন সেটা অনলাইনে  ব্লগ আকারে লিখে আপনি ভিজিটর বা মানুষের কাছে পৌছিয়ে দেবেন বা দিতে পারবেন। এই ভাবে ব্লগিং করে বা একেই ব্লগিং বলে। আমরা এর সম্পর্কে  আরো গভীর ভাবে জানবো কিভাবে ব্লগিং শুরু করা যায়। 

ব্লগ থেকে কিভাবে আয় করা যায়

মানুষের মধ্যে দিন দিন যা কিছু মনের অজানা সেই সব কিছু মানুষ এখন আর বই খুঁজে না গুগল সার্চ করার মাধ্যমে জেনে থাকেন। এখন মানুষ গুগল সার্চ এর মাধ্যমে যখন কোনো সমস্যার সমাধান খুজেতে আপনার ব্লগ সাইটে এসে তার অজানা তথ্য আপনার কন্টেন্ট এর মাধ্যমে জানতে পারে এবং উপকৃত হয়। 

সেই সব ভিজিটর কে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট প্রোমোশন (affiliate marketing )করেন বা বিজ্ঞাপন( Google AdSense ) দেখান তাহলে সেই দেখার মধ্যে আপনি একটা ইনকাম করতে পারবেন । এইভাবে মানুষেরা ব্লগিং করে আয় করে। কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন এই ব্লগিং এর মাধ্যমে তার জন্যে আপনাকে আরো একটু গভীরে যেতে হবে। 

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়

এতক্ষন আপনাকে সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করেছি ব্লগিং থেকে কিভাবে আয় করা যায়। এবার বলবো ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়। এইটা স্বাভাবিক মানুষের প্রশ্ন কত টাকা আয় করা যায় ব্লগিং করে। 

সারা বিশ্বে অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে যেগুলিতে গুগল এডসেন্স এপ্রোভ করা আছে সেগুলি দিয়ে মানুষ প্রতিদিন প্রচুর প্রচুর টাকা অনলাইন থেকে ব্লগিং এর মাধ্যমে আয় করে থাকে। যেই ওয়েবসাইট গুগল সার্চ এর মাধ্যমে মানুষ খুব বেশি তাড়াতাড়ি খুঁজে পায় সেই সব ব্লগিং ওয়েবসাইটরা খুব বেশি ইনকাম করে। 

টাকার পরিমান টা পুরোপুরি বলা না গেলেও এই ব্লগিং এর মাধ্যমে মানুষেরা এখন কম করে হলেও ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে প্রতি মাসে । তবে নতুনরা অন্তত ১৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। আপনার ওয়েবসাইট যতবেশি গুগল সার্চ রেঙ্কে খুঁজে পাবে বা মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন ততবেশি আপনার আয়  বৃদ্বি হবে।  

কিভাবে ব্লগিং শুরু করা যায় 

কিভাবে আপনি ব্লগিং শুরু করবেন সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করব ।যাতে আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন জামেলায় না পড়েন সেইদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এগিয়ে যাব । নিচে কিছু পদ্বতির মাধ্যেম আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারবেন।

নিশ নির্বাচন করা / টপিক নির্বাচন করা 

নিশ মানে হল বাংলা ভাষায় কুলঙ্গি বা বিষয়। যেকোনো একটি বিষয় আপনি নির্বাচন করুন। সেটা হোক কোনো ফ্রীল্যান্সিং বিষয়ে বা কোনো গল্প বা হতে পারে চিকিৎসা বিষয়ে আরো হতে পারে ধর্মীয় বিষয়ে। যাই কিছু হোক। 

একটি বিষয়  আপনাকে প্রথমে নির্বাচন করতে হবে। আর সেই বিষয়ে আপনি মনের মতো করে লিখবেন। অর্থাৎ যে বিষয় সম্পর্কে আপনি ভাল জানেন বা মানুষকে যেই বিষয় সম্পর্কে ইনফরমেশন দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারবেন সেই বিষয় আপনি নির্বাচন করবেন।

নিশ অনুযায়ী একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং নেয়া

ব্লগিং করতে হলে আপনাকে প্রথমে সেই বিষয় সম্পর্কে একটি ডোমেইন কিনতে হবে যাকে বলে আপনার একটা অনলাইন ঠিকানা। যেই ঠিকানাতে আপনি আপনার সমস্ত ব্লগ বা কন্টেন্ট লিখেবেন। সেটি নিশ অনুযায়ী নিলে এস ই ও  এর ক্ষেত্রে খুব ভালো হয়।

কারণ আপনার টপিক এবং আপনার লিখা সম্পর্কে যদি মিল থাকে সেই ক্ষেত্রে গুগল সার্চ ভেলুতে আপনার ওয়েবসাইটটি মানুষের কাছে খুব তাড়াতাড়ি খুঁজে পাবে।

এবার আসি হোস্টিং নিয়ে। ব্লগিং নিয়ে কাজ শুরু করার আগে হোস্টিং আপনাকে নিতেই হবে। হোস্টিং কি? হোস্টিং হলো আপনি যে ব্লগ গুলি লিখবেন বা আপনার ব্লগ সাইটে যে কন্টেন্ট গুলি লিখবেন সেই গুলি কোথায় রাখবেন? 

সেই কন্টেন্ট গুলি রাখার জন্যে আপনাকে একটা হোস্টিং কিনতে হবে। অর্থাৎ হলো একটি অনলাইনে জায়গা নিতে হবে। আপনারা যেমন ব্যবসা করার জন্যে কোনো প্রোডাক্ট কিনলে সেটা রাখার জন্যে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে হয়, সেই ভাবে এই হোস্টিং হলো অনলাইনে একটি জায়গা কিনে নেওয়া। যেখানে আপনার কন্টেন্ট গুলি রাখবেন। 

আরো পড়ুন ঃ গুগল এডসেন্স এর কাজ কি ? কিভাবে এডসেন্স পেতে পারেন ?

এখন এই হোস্টিং কোথায় হতে আপনি কিনতে পাবেন ? 

অনলাইনে অনেক হোস্টিং প্রোভাইডার আছে যারা খুব কম দামে আপনাকে হোস্টিং প্রোভাইড করে থাকে। আপনি এদের কাজ থেকে ২ বা ৩ হাজার টাকার মধ্যে আপনি একটি ভালো হোস্টিং কিনে নিয়ে পারবেন। 

বাংলাদেশেও  আপনি অনেক কম দামের মধ্যে হোস্টিং কিনতে পারবেন। আমি কয়েকটি হোস্টিং এবং ডোমেইন প্রোভাইডারদের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো। 

১. Neamchep

২. Blue host

বাংলাদেশী হোস্টিং প্রোভাইডার 

১. Intel host BD

২. Putul host 

৩. Web Host BD

৪. Hosting Bangladesh

ওয়ার্ডপ্রেস /ব্লগারে সেটাপ করা 

ব্লগিং শুরু করতে আপনাকে একটি অবশ্যই যেকোনো CMS সাইটে আপনার ডোমেইনটা দিয়ে সেটা করতে হবে। সেটি হতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার।

এছাড়া ও আর অনেক এই রকম CMS সাইট আছে যেমন সফিফাই, ড্রুপাল ।

তবে ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগার এক্ষেত্রে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে ।  কারণ এইগুলি হচ্ছে CMS সাইট। মানে হলো “কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেম”। 

এইখানে আপনার ডোমেইন সেটাপ করলে আপনি খুব সহজে আপনার সাইট টিতে রক্ষণাবেক্ষন করতে পারবেন। এবং এই সার্ভার গুলি খুবই গোপনীয়তা রক্ষা করে। 

একটি পছন্দের মত থিম নির্বাচন করা 

একটি সুন্দর ডিজাইনেবল থিম আপনার ব্লগিং জীবনের জন্যে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্লগিং শুরু করার জন্যে আপনাকে থিম নিতে হবে।

যেভাবে মানুষ বাড়ি ডিজাইন করে ঠিক তেমন ভাবে ডিজাইনেবল একটি থিম আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।

যেখানে আপনি আপনার কন্টেন্ট গুলিকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন। 

কারণ অনলাইনে কোন ভিজিটর যদি আপনার কন্টেন্ট পড়তে আসে আপনার ওয়েবসাইটে।

কিন্তু সেই ওয়েবসাইট যদি দেখতে সুন্দর না হয় তাহলে আপনার জন্যে এটি একটি নেতিবাচক দিক ভিজিটর হারানোর ক্ষেত্রে। তাই সুন্দর থিম নির্বাচন করা খুব প্রয়োজন ব্লগিং এর ক্ষেত্রে। 

আপনি খুব কম দামে থিম কিনে নিতে পারবেন ।

যেমন থিমফরেস্ট থেকে ও আপনি এই থিম কিনতে পারবেন ।

অথবা ফ্রি ও থিম ব্যবহার করে আপনি একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবনে । 

একজন ডেভেলপার নির্বাচন করা 

ব্লগিং করার ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্যে একজন ডেভেলপার নিয়োগ করতে পারেন যে আপনার উপরের বর্ণিত ৩ ও ৪ নাম্বার কাজটি করে দেবে কিছু অর্থের বিনিময়ে।

টাকা দিয়ে আপনি একজন ডেভেলপার এর সাহায্যে এই সব কাজ গুলি করিয়ে নিতে পারবেন।

আর যদি আপনার ওয়েবসাইট তৈরী করার আইডিয়া থাকে তাহলে তা আর দরকার নেই। 

ব্লগ লিখা ও পাবলিশ করা 

এবার যদি আপনার ব্লগ সাইট তৈরী হয়ে যায়। তাহলে আপনি সেখানে নিজের মতো করে ব্লগ লিখেন।

এবং পাবলিশ করেন। তবে আপনাকে কিছু বিষয় আগে জানতে হবে কিভাবে ব্লগ লিখতে হয়।

মানে কিভাবে লিখলে আপনার ব্লগ সাইটটি খুব সহজে ভিজিটর রা খুঁজে পাবেন। 

এস ই ও (SEO)করা 

আপনার ব্লগ পোস্ট পাবলিশ করার আগে ও পরে কিছু এস ই ও (SEO) রয়েছে যেগুলি আপনাকে ভালভাবে জানতে হবে।

কেননা আপনার ব্লগ পোস্ট গুলি এই এস ই ও (SEO) এর উপর ভিত্তি করে পাবলিকের কাছে বা গুগল সার্চ ভিজিটরের কাছে পৌঁছাবে।

দুই ভাগে এই এস ই ও (SEO) গুলি হয়ে থাকে যেমন ঃ 

অফ পেইজ এস ই ও  ( OFF PAGE SEO )

অন পেইজ এস ই ও ( ON PAGE SEO ) 

এইগুলি যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে তার জন্যে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

কারণ আপনি খুব কম টাকায় এস ই ও (SEO) )বা ডিজিটাল মার্কেটের খুঁজে পাবেন । 

শেষ কথা 

ব্লগিং কিভাবে শুরু করব এই নিয়ে অনেক্ষন কথা হয়েছে।

শেষ কথা হলো আপনি যদি ব্লগিং করে ইনকাম করার কথা চিন্তা করেন এবং কিভাবে শুরু করবো,

এই দ্বিধায় থাকেন তাহলে উপরের সমস্ত কথা গুলি মনোযোগ সহকারে পালন করেন।

আমি মনে করি আপনার জন্যে ব্লগিং শুরু করা বা ব্লগিং করে আয় করা কোন সমস্যা থাকবেন না। 

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী  ( FAQ)

ব্লগিং  করার কি কোনো নিয়ম রয়েছে ?

হ্যা অবশ্যই ব্লগিং করার নিয়ম রয়েছে। যেমন আপনাকে সম্পূর্ণ নিজের আইডিয়া থেকে ব্লগ লিখেতে হবে। যেন ইউনিক হয় ।
ভিজিটর আপনার লিখাগুলি পড়তে পারেন। একটা নতুনত্ব খুঁজে পায়। 

ব্লগিং এর মাধ্যমে কি আসলে টাকা আয় করা যায় ?

হ্যা ১০০% সত্য ব্লগিং করে টাকা আয় করা যায়। এই বিষয়ে আপনি Google AdSense কোম্পানির সাইটে গিয়ে দেখে নিতে পারেন। 

ব্লগিং করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে কতদিন সময় লাগতে পারে?

ব্লগিং করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে কতদিন সময় লাগে এই বিষয়ে সঠিকভাবে বলা একটু কঠিন হয়ে যায়।
হ্যা তবে আপনার ব্লগ সাইটের কন্টেন্ট গুলি গুগল সার্চ ভলিয়ামে যত দ্রুত পাওয়া যাবে। ততবেশি আপনার ইনকামে তাড়াতাড়ি হবে।
আপনার যদি ভিজিটর বেশি হয় আপনি খুব কম সময়ের মধ্যে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
আবার যদি আপনি রেঙ্ক হারান তাহলে  ১ বছরেও ইনকাম না হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

শুরু করতে কি কি বিষয় জানতে হয় ব্লগিং এর ক্ষেত্রে ?

ব্লগিংশুরু করতে আপনাকে আগে কিভাবে ব্লগ লিখে সেইগুলি জানতে হবে।
মানে হলো কিভাবে ফরমেট লিখে বা কিভাবে কিওয়ার্ড প্লেস করতে হয়। এই সব বিষয়। 

ব্লগিং শুরু করার জন্যে আর পড়ুন ঃ ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *