নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায় ? বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা কি ?

নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায়

স্বাগতম আমাদের এই নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায় এই এই নিবন্ধে ।

আশা করি ভালো আছেন । নিশ্চয় আপনি নারীদের নিয়ে অনেক সচেতন । না হয় কোনো নারীর দুর্দশা দেখে কিংবা নারীদের অবহেলিত দেখে আপনার মনে এই কৌতহল এসেছে । 

নারী হলো জননী, বোন , কন্যা অথবা স্ত্রী যে কোনো পর্যায়ে আপনি নারীদের কাছ থেকে সেবা পেয়েছেন। কারন আমরা পুরুষরা যেকোন কারণে নারীদেরকে পাশে পেয়েছি দীর্ঘদিন।

কিন্তু আমাদের কাছে সেই নারীদের উন্নয়নের চিন্তা কিন্তু আসে নি কোনোদিন। 

আর যদিও আমাদের কাছে কোনো দিন নারীদের সম্পর্কে উন্নয়নের চিন্তা মাথায় এসে ও থাকে তারপর ও হয়তো জানিনা। নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায়। সেই প্রেক্ষাপটে আজকে আমরা নারীদের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবো।

কিভাবে আপনার কাছের কিংবা অবহেলিত নারীদের নিয়ে আপনি উন্নয়নের ধারণা দিতে পারেন কিংবা সহযোগিতা করতে পারেন। 

নারী উন্নয়ন কি ?

নারী উন্নয়ন বলতে প্রধান ও বিশেষ করে বুজায় শিক্ষা ও মানসিক চিন্তাচেতনার সার্বিক উন্নতি।

নারীদের মানসিক উন্নতি হলে সকল জাতির জন্যে খুব উপকার। কারণ এরাই পরিবারে সকল দায়িত্ব পালন করে থাকে আমাদের দেশে। 

একজন মা ,স্ত্রী বা নারী সংসারের সমস্ত কিছু করার পর ও সে অবহেলিত। যদিও অন্য দেশে আমাদের মতো রীতি নেই। তা ও বলব মানুষের সকল বিভাগে নারীদের উপস্থিতি দেখা যায় বর্তমানে। 

সেই নারীদের মানসিক উন্নতির জন্যে বিশেষ করে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারেন একজন বাবা ও মা।

কারণ একজন নারী ছোটকাল থেকে তার পিতা মাতার কাজ থেকে যে শিক্ষা লাভ করে সেই শিক্ষার উপর ভর করে তাদের জীবন নির্মাণ হয়।

তাই বলব তাদের জীবনকে স্থায়ীভাবে ধারণ করার নিমিত্ত্বে  মানসিক উন্নতির জন্যে শিক্ষা দেওয়া খুব প্রয়োজন। যেমন কিভাবে নিজের জীবনকে সাবলম্বী করা যায়।

কিভাবে নিজেকে দেশের জন্যে এবং ওপরের সহযোগিতার জন্যে সাজাতে হয়।

সেইভাবে পিতামাতাকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তাছাড়াও নারীদের শিক্ষা ব্যবস্তার জন্যে যাতে পিতামাতা ভালো করে দায়িত্ব নেই। কারণ শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। 

নোপোলিয়ানের একটি  বিশেষ উক্তি আছে সে সম্মন্ধে “তোমারা আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের কে একটা শিক্ষিত জাতি দেব ” । নিশ্চয় নারী দের শিক্ষার অবস্থা তিনি বুজতে পেরেছেন। 

আমাদের দেশে সেই নারী কিন্তু অনেক পিছিয়ে। আমি সম্পূর্ণ বলব না।

কিন্তু সেই ক্ষেত্রে অনেক কম। তাই আমাদের দেশে নারীদের উন্নয়নের চিন্তা নিয়ে পিতামাতাকে খুব খুব ভালভাবে এগিয়ে আসলে, আমি মনে করি অবশ্যই নারী উন্নয়ন পুরোপুরি সম্ভব। 

নারী উন্নয়নে করনীয়

নারী উন্নয়নে অনেক কিছুই করণীয় রয়েছে।সেটা পরিবারের বলেন কিংবা সমাজের বলেন। সবার এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। যেমন 

১. শিক্ষার ব্যবস্থা 

২. আত্মউন্নতির ব্যবস্তা 

৩. মূল্যবোধ তৈরী করা 

৪. অর্থনৈতিক ব্যবস্তা 

এই সমস্ত কিছু নারী উন্নয়নে করণীয় রয়েছে। কিন্তু সেই সুবাদে তাদের সাথে ভালবেসে তাদের প্রয়োজনীয় কিছু জিজ্ঞেস করা ও কর্তব্য। সমাজে নারী উন্নয়নে সেই সাথে বিত্ত্ববানদের  এগিয়ে আস্তে হবে। 

নারী উন্নয়ন কল্পে সরকার ও বিদেশী অনেক সংস্থা অনেক কিছুই সুবিধা দিয়েছেন ।

তার পর ও আমি বলব আগে নিজের সমাজ থেকে কিংবা পরিবার থেকে যে সহযোগিতা সেটা আগে প্রয়োজন।

তাদেরকে তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া থেকে শুরু করে আর্থিক ভাবে যেন ওপরের উপর নির্ভরশীল না হয় সেই শিক্ষা দেওয়া করণীয়।

নারী উন্নয়নে পুরুষের ভূমিকা

নারীদের চেতনার উদ্ভব ঘটাতে পুরুষের ভূমিকা অপরিসীম। হয়ত শতভাগ পূরণ হবে না যদি নারী উন্নয়নে পুরুষরা ভূমিকা না রাখে। তাই এক্ষেত্রে পুরুষদের হয়ত বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজের ও মনের বিকাশ ঘটাতে হবে। 

এই প্রজন্ম যেমন তেমন করে চলছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি আপনি পুরুষ হয়ে যতউপযুক্ত শিক্ষা না দেন বা ভূমিকা না রাখেন তাহলে অন্নান্য দেশ হতে দিন দিন পিছিয়ে পড়বে আমাদের ঘরের ,সমাজের বা দেশের নারীরা। 

অনেক দেশে দেখবেন আগের নিয়ম সব বাদ দিয়ে দাসত্ব প্রথার বিরোদ্বে গিয়ে নারীদের এখন সচরাচর সমাজের সব কিছু করার জন্যে সহযোগিতা করছে। 

যেমন ড্রাইভিং ,ব্যবসা ,শিক্ষকতা বা নেতৃত্ব দেওয়ার মত বিরল ঘটনা আমরা দেখতে পাই। একজন পুরুষ চাইলে একজন নারীকে পুরুষের মত করে সাহসিকতা দেখানোর ছোয়া দিতে পারেন।  

আরো পড়ুন ঃ ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা করুন । নিজে সাভলম্বী হোন এবং অন্যকে সহযোগিতা করুন।

জীবনের উদ্দেশ্য কি ? জীবনের লক্ষ্য কি হওয়া উচিত

পাশ্চাত্য দেশের সাথে আমাদের দেশের নারী উন্নয়নের ব্যবধান 

সাধারণ ভাবে আমাদের দেশের সাথে পাশ্চত্য দেশের সাথে তুলনা করলে দেখবেন বাংলাদেশের নারীদের সাথে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। পাশ্চত্য দেশের নারীরা যেভাবে সব বিভাগে এগিয়ে গিয়েছে সে হারে আমাদের দেশের নারীরা স্বাভাবিক ভাবে কোনো দাসত্ব মূলক কাজের সাথে আটকে আছে। 

অন্নান্য দেশের নারীরা অনলাইন বলেন অফলাইন বলেন সব জায়গায় এগিয়ে। সে হরে আমাদের দেশের নারীরা তার চেয়ে অনেক কম শতাংশ পিছিয়ে। পাশ্চত্য দেশের নারীরা এমনকি মহাকাশ গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত। 

কিন্তু আমাদের নারীরা সেই অংশে তেমন দেখা যায় না। তাই আমাদেরকে সেই হিসেবে নারীদের উন্নয়নের জন্যে গড়ে তুলতে হবে। তাদের মানবিক অধিকারের ক্ষেত্রে ,আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ক্ষেত্রে এবং আর্থ সামাজিক অধিকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তুলে আনতে হবে। 

কারণ এই সেক্টরে যদি আমাদের নারীরা পিছিয়ে পড়ে তাহলে দেশ ও দশের সাথে আমরা পিছিয়ে পড়বো। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নয়নে নারীর অবদান

এই টপিকটা একটু বেশি জরুরি বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নয়নে নারীর অবদান । আমাদের দেশের বিশাল একটি রেমিটেন্স উৎপাদনে নারীরা খুব দেশের সহযোগিতায় এগিয়ে আছে। সেটা হচ্ছে পোশাক রফতানি খাত।

 এই খাতে নারীরা না হলে আমাদের দেশ অনেকাংশে পিছিয়ে পড়তো।

আমাদের অনেক সেক্টর আছে যেগুলি আমরা খুব সহজে মনোযোগ প্রদান করি না।

যেমন অনলাইন ভিত্তিক কম্পিউটার সেক্টরে , যেমন ফ্রিলেন্সিং এবং ক্ষুদ্র কুটির শিল্প অথবা তাঁত শিল্প এই সেক্টর গুলিকে যদি নারী উন্নয়নের মাধ্যমে আরো সহযোগিতা করা যায়। 

তাহলে নিশ্চয় আমাদের দেশে নারীদের ভূমিকা ফুটে উঠবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্যে নারীরা আরো এগিয়ে যাবে।  

নারী উন্নয়ন প্রকল্প

যদিও সরকার অনেক কিছু নারীদের প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। তারপর ও আমাদের মধ্যে সেই সম্পর্কে চেতনা কম।

কিন্তু নারীদের উন্নয়ন প্রকল্প গুলিকে যদি আরো বেশি করে অগ্রঅধিকার দেওয়া যায় তাহলে আমাদের আর্থ কর্মসংস্তান দিন দিন বৃদ্বি পাবে।

নারীদের উন্নয়নের জন্যে যেসব প্রকল্প গুলি বাস্তবায়ন করা যায়

  • সেলাই ও এমব্রয়ডারী কাজ 
  • নকশী কাঁথা ও কাটিং,
  • বিউটিফিকেশন।
  • মোবাইল সার্ভিসিং 
  • কম্পিউটার প্রশিক্ষণ 
  • ব্লক-বাটিক 
  • পোলট্রি উন্নয়ন

এইসব কিছুর পরেও আরো অনেক কিছু করা সম্ভব।

যদিও আমাদের দেশের সরকার এইগুলির জন্যে উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তেমন নারীদের উন্নয়নের কল্পে  জাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায় না।

সেই ক্ষেত্রে সাহস জোগাতে হবে এবং আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার জন্যে উদ্ভুদ্ধ করতে হবে। 

নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায়, এই ক্ষেত্রে নারী সমাজকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।

নারীদের সমাজের দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হবে। নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায় ?

এই ক্ষেত্রে নারীর অধস্তনতা ও নির্যাতনের মধ্যকার অবস্থান থেকে বের করে আনতে হবে। দাসত্ব বোধ থেকে বের করে বাহির জগৎ এর সাথে পরিচয় করতে হবে।

পরনির্ভশীলতার বন্ধন থেকে মানসিকভাবে বের করে আনতে হবে।

তাদের নিজেকে অর্থ উপার্জনের জন্যে সাহসের মাধ্যমে দারিদ্রতা থেকে বের করে আনার জন্যে উদ্ভুদ্ব করতে হবে। 

সমাজে যদি নারীরা কেবল আর্থিক ভাবে উন্নয়ন ঘটাতে না পারে তাহলে দিন দিন তারা হীনমন্যতায় ভুগবে। দারিদ্রের অভিশাপ বড় অভিশাপ।

তাদের মধ্যে এই মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হবে যাতে করে তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়। 

আমাদের দেশে দেখা যায় অনেক নারীরা এই দারিদ্রতার অভিশাপে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।

এই প্রথা থেকে বের করে আনতে হবে। কারণ নারী সমাজকে যদি দারিদ্রতা থেকে বের আনা না হয় তাহলে পরবর্তী জেনারেশন আরো অধোগতি হবে। 

 চার দেওয়ালের ভেতর রাখলে কখনো এই দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা যাবে না ।

নারীদের উন্নয়নে তাদেরকে নিজের মত করে উপার্জন করার জন্যে বাইরে বের করতে হবে ।

এই মূল্যবোধ তাদের মধ্যে সৃস্টি করতে হবে । যেন তারা নিজেকে কখনো একা না ভাবে ।  

শেষ কথা 

নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায় সেই বিষয় নিয়ে আমরা অনেক কিছুই আলোচনা করেছি।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে আগে নিজেকে জানুন ,

যে একজন নারী উন্নতি হলে দেশের ও দশের কি কি উন্নতি হতে পারে। সেইভাবে নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। 

নারী উন্নয়ন বলতে কি বুঝায় সেই সম্পর্কে অনবরত জিজ্ঞাসা (FAQ)

নারীদের উন্নয়নের পুরুষের কি উন্নতি হতে পারে ?

অনেক ভাবে হতে পারে নারীদের উন্নয়নে পুরুষের উন্নতি ।
আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক এবং সামগ্রিক ভাবে।
একজন নারী উন্নত হলে পরবর্তী জেনারেশান অবশ্যই শিক্ষিত এবং সুশৃঙ্খল হবে। এবং সর্বশেষ একটি উন্নত জাতি উপহার পাবে। 

নারীদের উন্নয়ন বলতে আমরা যা বুঝি তা কি আসলে আমাদের দেশে আদৌ সম্ভব। 

হ্যা অবশ্যই সম্ভব। যে জাতি যত বেশি সচেতন সে জাতি ততবেশি উন্নত।
সে ক্ষেত্রে মানসিক ভাবে দৃঢ়তা হারালে চলবে না। অন্নান্য দেশ আগে সেই রকম ছিল না।
আমাদেরকেও সেই মোতাবেক সার্বিক ভাবে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।
আপনার আমার সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অবশ্যই সম্ভব। 

নারীদের উন্নয়নে কি দেশের উন্নয়ন সম্ভব ?

হ্যা অবশ্যই সম্ভব।
কারণ দেশে এখন নারীরা পোশাক রফতানি খাতে সে উন্নয়ন আমরা দেখি সে ক্ষেত্রে অন্নান্য প্রকল্পগুলিও যদি সেই রূপ দক্ষ জনবলের দ্বারা অবকাঠামো তৈরী করা যায়।
তাহলে অবশ্যই দেশের উন্নতি অনেকাংশে সম্ভব। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *